মাহে রমজান ও ফিলিস্তিন প্রসঙ্গ:মো. জিয়াউল হক মৃধা

প্রকাশিত: ২:৫৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ২২, ২০২৪

মো.তাসলিম উদ্দিন সরাইল( ব্রাহ্মণবাড়িয়া) মাহে রমজান ও ফিলিস্তিন প্রসঙ্গ নিয়ে সাবেক এমপি এড. মো. জিয়াউল হক মৃধার ফেসবুকের লেখাটি হুবহু তুলে ধরা হলো।পবিত্র সিয়াম সাধনা চলছে বিশ্বব্যাপী।শুধু ইসলামী দেশনয় পৃথিবীর যেখানেই মুসলমানের অস্তুিত্ব আছে সেখানেই চলছে সংযমের এই কঠোর অনুশীলন।
কিন্তু পরিতাপের বিষয় মুসলমানগণ যে পবিত্র মসজিদকে সামনে রেখে প্রথম সেজদা দিতেন সেই মসজিদে সালাত আদায়করতে পারছেনা মুসলমানরা শান্তিপূর্ণভাবে। উগ্র ইহুদীবাদী নেতিনিয়াহুর সন্ত্রাসী বাহিনীর নির্মমতায়।গাজা জ্বলছে,জ্বলছে গোটা ফিলিস্তিন।ফিলিস্তিনি নারী শিশুর ক্রন্দনে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ বাতাস ভারীহয়ে উঠেছে।ফিলিস্তিনের বাতাসে বারুদের গন্ধ।গাজার অলিতে গলিতে লাশের স্তুপ।পঁচা লাশের দুর্গন্ধে পরিবেশ অসহনীয়। সন্ত্রাসী নির্মুলের নামে মার্কিনী ও তাদের দোসর পশ্চিমাদের মদদে ও সার্বিক সহযোগীতায় মানবতাবিরোধী যে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, সাম্প্রদায়িকতার যে নীল বিষ ছড়াচ্ছে অনতিবিলম্বে এই মরণ খেলা বন্ধ নাহলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামা বেজে উঠাও বিচিত্র নয়।তবে আশার কথা এইযে,খোদ ইসরাইলেও সাধারণ মানুষ যুদ্ধ বন্ধের দাবীতে,সরকারের পদত্যাগের দাবীতে এবং ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার সমর্থনে রাজপথে সোচ্চার হচ্ছে।খোদ আমেরিকা -বৃটেনসহ বিশ্বের দেশদেশে জাতিধর্ম নির্বিশেষে এই অন্যায়যুদ্ধ,অমানুষিক বর্বর হত্যাযজ্ঞ বন্ধের দাবীতে ও ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে বিক্ষোভ হচ্ছে,সভাসমাবেশ হচ্ছে।ফিলিস্তিন ইস্যুতে জরুরী যুদ্ধবন্ধের প্রস্তাব নিরাপত্তা পরিষদে মার্কিন ভেটোতে প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় আবারও প্রমাণিত হয়েছে জাতিসংঘ বিষদাঁত হীন ঢোরাসাপ বা ঢালতলোয়ার হীন নিধিরাম সর্দার।ইরান,তুরস্ক,সৌদিআরব, লেবানন,ইয়েমেন, সুদান সহ গোটা মধ্যপ্রাচ্য আজ প্রতিবাদমুখর।তামাম বিশ্বের তারু্ণ্য এবং যুবশক্তি বিশেষকরে মুসলিম যুবশক্তি আজ ইসরাইলী ইহুদীবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফোঁসে উঠছে।বাইডেন/নেতিনিয়াহুর উচিত আগুন নিয়ে মরণখেলা বন্ধকরা। তা নাকরে এই পবিত্র রমজানকে কেন্দ্র করে হামাস যে যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব এনেছে তা প্রত্যাখ্যান করেছে মোড়লেরা।ফলশ্রুতিতে গাজায় নিয়মিত ত্রাণসামগ্রী না পৌঁছায় অখাদ্য, কুখাদ্য খেয়ে রোজা রাখতে হচ্ছে,মসজিদের ধ্বংসস্তুপের ওপর নামাজ আাদায় করতে হচ্ছে।সর্বক্ষণ আতঙ্ক কখন ইসরাইলি বোমা বা বুলেট ঝাঁঝরা করে দেয় দেহপিঞ্জর।
পবিত্র মাহে রমজানও থামাতে পারেনি মৃত্যুর মিছিল। ইফতার নেই,সেহরি নেই,তারাবি নেই মানবতার এত অপমান আল্লাহ তুমি সহ্যকর কিভাবে? অথচ ফিলিস্তিনের এই ভুমিতেই তুমি বাইডেনের নবী হযরত ঈসা আ. হযরত ইয়াকুব, হযরত জাকারিয়া আ.সহ অনেক নবীরাছুল পাঠিয়েছ। এই পবিত্র ভুমির এত অত্যাচার কিভাবে সহ্যকর দয়াময়!
সবশেষে আমি একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে মহাবিশ্বের মহাসৃষ্টি অণু পরমাণু হিসেবে একটা প্রস্তাব রাখতে চাই, ওআইসি একটা নির্দিষ্ট দিনকে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার সমর্থনে বিশ্বব্যাপী সংহতি দিবস ঘোষনা করুক। একইদিনে সারা পৃথিবীর মানুষ সভাসমাবেশ ও প্রতিবাদে সোচ্চারহোক,একইসাথে সোচ্চারহোক কোটিকোটি মানুষের বিদ্রোহী কণ্ঠ।
আশাকরি বিশ্ব বিবেকের চাপে স্তব্ধ হয়ে যাবে আধিপত্যবাদের রণহুংকার। শান্তিপূর্ণ ভাবেই স্বাধীন ফিলিস্তিনের পতাকা পতপত করে উড়বে ফিলিস্তিনের সুনীল আকাশে।