৮৬০০ বছর আগের তৈরি রুটি কেমন ছিল জানেন?

প্রকাশিত: ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৩, ২০২৪

অনেকেই রুটি খেতে ভাতের চেয়েও বেশি পছন্দ করেন। আমাদের বাঙালিদের রুটি প্রধান খাবার না হলেও বিশ্বের অনেক দেশেই রুটি প্রধান খাবারের একটি। মিশর, তুরস্ক সহ বিভিন্ন দেশে তারা সকালের নাস্তা এবং অন্যান্য সময়েও রুটি খান। তবে সেটা আমাদের দেশে আটার তৈরি আগুনে সেঁকা রুটি নয়। বরং আমাদের যে পাউরুটি বা বেকারির তৈরি রুটি অনেকটা সেরকম।

তবে আজ থেকে ৮ হাজার ৬০০ বছর আগে কেমন রুটি খেতেন মানুষ জানেন কি? জানার আগ্রহ থাকলেও তা হয়তো দেখার সৌভাগ্য হবে না। হয়তো ইতিহাসবিদদের বর্ণনায় পড়েছেন সেই রুটির চিত্র। তবে এবার চাইলে স্বচক্ষে দেখতে পারবেন সাড়ে ৮ হাজার বছর আগের তৈরি রুটি।

সম্প্রতি তুরস্কের প্রত্নতত্ত্ববিদরা ৮ হাজার ৬০০ বছরের পুরোনো একটি রুটি খুঁজে পেয়েছেন। তুরস্কে খননকার্যের সময় সামনে এসেছে সেই রুটির অংশবিশেষ। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এখনো পর্যন্ত এটি বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো রুটি।

৮৬০০ বছর আগের তৈরি রুটি কেমন ছিল জানেন?

তুরস্কের কনিয়া প্রদেশের চাতালহুইকের প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকার ‘মেকান ৬৬’ নামের অংশটিতে পাওয়া গিয়েছে এই রুটিটি। এলাকাটি অতি প্রাচীন ইট দিয়ে তৈরি বাড়ি দিয়ে ঘেরা। যেখান থেকে রুটিটির অবশেষ পাওয়া গিয়েছে সেটি একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত ওভেন বলে মনে করা হচ্ছে।

মাইক্রোস্কোপিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা নিজেদের সন্দেহ সত্যি বলে প্রমাণ পেয়েছেন। ফলে বস্তুটি যে রুটিরই অবশেষ তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই বলে জানিয়েছেন, তুরস্কের গাজিয়ান ইউনিভার্সিটির বায়োলজিস্ট সালিহ কেভক। রুটির রাসায়নিক পরীক্ষাও করা হয়েছে। ফার্মেন্টেশনের প্রমাণও মিলেছে। পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, রুটিটি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে কোনো শস্যের আটা বা ময়দাজাতীয় কোনো কিছু এবং পানি।

যে এলাকা থেকে প্রাচীনতম রুটির সন্ধান মিলেছে চাতালহুই প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকা ইউনেস্কো ঘোষিত একটি বিশ্ব ঐতিহ্য। এই এলাকায় নব্যপ্রস্তুরযুগে (খ্রিস্টপূর্ব ১০ হাজার সাল থেকে ২ হাজার সাল) ৮ হাজারের মতো মানুষের বাসস্থান ছিল। একে বিশ্বের নগরায়নের প্রথম স্থানগুলোর মধ্যে একটি বলেও মনে করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে তখনকার মানুষদের তৈরি এই রুটি।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া