সরাইলে প্রতিমা ভাংচুর করা দুষ্কৃতিকারী গ্রেপ্তার,দ্রুত বিচার আইনে মামলা

প্রকাশিত: ৩:৫৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৩, ২০২৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল দুর্গা প্রতিমা ভাংচুর করেছে খলিল মিয়া (৩৬) নামের এক দুষ্কৃতিকারী। গতকাল বৃহস্পতিবার (২০জুলাই) রাত ৯টার দিকে উপজেলার শাহজাদাপুর ইউনিয়নের নিয়ামতপুর গ্রামের একটি মন্দিরে এই ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে রাতেই জেলা প্রশাসক মো. শাহগীর আলম ও পুলিশ সুপার মো. শাখাওয়াত হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ভাংচুরকৃত প্রতিমা পুনঃ নির্মানের ব্যবস্থা করেন।

এদিকে শুক্রবার ভোরে পুলিশ নাসিরনগর উপজেলার গোকর্ণ ইউনিয়নের জেঠাগ্রামের চটিপাড়া থেকে খলিল মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। খলিল ওই গ্রামের মোতালেব মিয়ার ছেলে। পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাসিরনগর থানায় মারামারি তিনটি মামলা রয়েছে ।

নিয়ামত গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফুল্ল চন্দ্র ভৌমিক জানান, খলিল মিয়া বৃহস্পতিবার রাতে নিয়ামতপুরের শ্যামবাবা ঘোষাই মন্দির সংলগ্ন মন্দিরে থাকা স্থায়ী দুর্গা প্রতিমা ভাংচুর করে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে রাতেই জেলা প্রশাসক মো. শাহগীর আলম, পুলিশ সুপার মো. শাখাওয়াত হোসেন ও সরাইল থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এবং ভাংচুরকৃত প্রতিমা পুনঃ নির্মানের ব্যবস্থা করেন।

সিসি টিভি পর্যালোচনা করে শুক্রবার (২১ জুলাই) ভোরে দুষ্কৃতিকারী খলিলকে পার্শ্ববর্তী নাসিরনগর উপজেলার চটিপাড়া থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খলিলের বোনের বাড়ি নিয়ামতপুর গ্রামে। সে জেলার বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা বাজার থেক মদ খেয়ে নৌকাযোগে সন্ধ্যায় নিয়ামতপুর গ্রামে আসার সময় নৌকার যাত্রী সংখ্যালঘু সম্প্রাদায়ের কয়েকজন লোকজনের সাথে তার বাদানুবাদ হয়। এ সময় মাতাল খলিল অপর যাত্রীদের হাতে চড়থাপ্পরের শিকার হন।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার দিকে বিদ্যুৎ না থাকার সুুযোগে খলিল মন্দিরে প্রবেশ করে প্রতিমা ভাংচুর করে পালিয়ে যায়। বিদ্যুৎ আসার পর ঘটনাটি হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের নজরে আসলে তাদের মধ্যে ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া হয়।

ওসি আরও জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে ঘটনাস্থলে গিয়ে সিসি ক্যামেরা পর্যালোচনা করে দ্রুত দুষ্কৃতিকারী খলিলকে চিহ্নিত করে তাকে গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেয় এবং শুক্রবার ভোরে তাকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি জানান, এ ঘটনার পেছনে অন্য কোন বিষয় আছে কিনা তা নিবিড়ভাবে তদন্ত করা হচ্ছে এবং গ্রেপ্তার খলিল সম্পর্কে বিশেষভাবে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় মন্দির কমিটির সভাপতি জগদীশ চন্দ্র সরকার বাদী হয়ে দ্রুত বিচার আইন এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অপরাধে মামলা দায়ের করেছেন। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা রয়েছে।

এ ব্যাপারে শাহজাদাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আছমা আক্তার জানান, দুষ্কৃতিকারী খলিল নিয়ামতপুর গ্রামের বাসিন্দা নয়। সে বোনের বাড়িতে বেড়াতে এসে এ কান্ড ঘটিয়েছে। গ্রামবাসী জানিয়েছেন নৌকা যোগে আসার সময়ও সে নৌকার যাত্রীদের সাথে ঝগড়া করেছে।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো. শাহগীর আলম বলেন, এক মদ্যপ দুষ্কৃতিকারী এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এর পেছনে অন্য কিছু আছে কিনা তদন্ত চলছে। তিনি জানান, প্রতিমা দ্রুত পুণ:নির্মাণের কাজ চলছে। আজকের (শুকবার) মধ্যেই পুণ:নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে। এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে ।

এদিকে শুক্রবার বেলা পৌনে ১১ টায় সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সরওয়ার উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, তিনি ঘটনাস্থলে রয়েছেন। তিনি এলাকাবাসীর সাথে কথা বলছেন। তিনি জানান, মন্দির পুণঃনির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তারপরও ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তদন্ত শেষে মূল রহস্য জানা যাবে।