শহীদ নুর হোসেন স্মরনে

প্রকাশিত: ১১:৩০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৯, ২০২১

মৃনাল চৌধুরী লিটন

আজ ১০ নভেম্বর শহীদ নুর হোসেন দিবস। ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে মিছিলে গুলিতে প্রাণ হারান নূর হোসেন। নুর হোসেনের আত্মদানের পর পেরিয়ে গেছে অনেক বছর। সামরিক স্বৈরাচার এরশাদের পতনের পর দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের পত্তন হয়। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস! যে সামরিক স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করতে গিয়ে শহীদের মৃত্যুবরণ করেন আজ বুকে পিঠে “স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক” লিখে ‘৮৭ সালের ১০ নভেম্বর ‘৯০ এর এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে যিনি শহীদের মুত্যু বরণ করেছিলেন, সেই নূর হোসেন কে জানাই লাল সালাম। নূর হোসেনের মত গণতন্ত্রকামী অগণিত বীর শহীদের আত্মদানের মধ্য দিয়েই ‘৯০ এ এরশাদের সামরিক শাসনের পরাজয় ঘটেছিলো। দেশবাসী সামরিক স্বৈরাচারের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছিল ।শৈশবে নূর হোসেনকে বেশ কয়েকবার আবাসস্থল পরিবর্তন করতে হয়। তবে নানান জায়গায় বিচরণের পর এসে স্থায়ী হন ঢাকার ৭৯/১ এর বনগ্রাম রোডে। দুরন্ত ও চঞ্চল স্বভাবের নূর হোসেনের শৈশব কাটে দরিদ্রতার মধ্য দিয়েই। তবুও পিতার কল্যাণে প্রাথমিক স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে যান হেসেখেলেই। তবে হাই স্কুলে অষ্টম শ্রেণীতে ভর্তি হবার পর দারিদ্র্যের সাথে আর পারলেন না। পরাজয় মেনে নিয়ে পড়াশুনার পাট চুকিয়ে কাজে যোগদান করেন। প্রথমে কাজ শুরু করেন মোটর মেকানিক হিসেবে।

তবে কাজে যোগদান করলেও জ্ঞানের অন্বেষণ থেমে থাকেনি তার। নিয়মিতই পড়তেন পত্রিকা, রাখতেন দেশ-বিদেশের সব রকমের খবরাখবর। তারই ফলস্বরূপ নিজের প্রচেষ্টায় কাজের বিরতিতে অবসর সময়কে কাজে লাগিয়ে এবং যে দারিদ্র্যের কারণে তার পড়াশুনা বন্ধ হয়েছিল, তাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সদরঘাটের কলেজিয়েট নৈশ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাশ করেন।

পড়াশোনার পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবেও বেশ সচেতন হয়ে উঠছিলেন নূর হোসেন। দেশের সঙ্কটের কথা বুঝতে পেরে তখন থেকেই স্থানীয় রাজনীতিতে যোগ দেন তিনি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে গিয়ে ধীরে ধীরে বিভিন্ন মিটিং, মিছিলে হয়ে ওঠেন সক্রিয় এবং একটা সময় এই মিটিং, মিছিল, আন্দোলনই হয়ে যায় তার প্রাণ।
সেই প্রাচীনকাল থেকেই এই ভূখণ্ডে নানান স্বৈরাচারী শাসকেরা তাদের অত্যাচার নিপীড়ন চালিয়ে গেছে এবং এখানকার মানুষেরা তা প্রতিহত করতে সচেষ্ট হয়েছে। কখনো এই স্বৈরাচারী শাসকদের সফলভাবে উৎপাটন করতে পেরেছে জনগণ, আবার কখনো অত্যাচারী শাসকের আঘাতে তারা হয়েছে রক্তাক্ত। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ৫২, ৬৯, ৭১ তারই জ্বলজ্যান্ত উদাহরণ। তাই এ কথা বলাই যায় যে, বাংলাদেশের ইতিহাস গণতন্ত্রের ইতিহাস।

স্বৈরাচার নীপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ সাদা রঙ দিয়ে নূর হোসেনের কৃষ্ণ বর্ণের বুকে-পিঠে শ্লোগানটি লিখে দিয়েছিল তার বন্ধু মোঃ ইকরাম হোসেন। কেডস, জিন্সের প্যান্ট পরে খালি গায়ে বুকে-পিঠে তার অমর শ্লোগান লিখে সেদিন সেই মসজিদ থেকে বের হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। আজ কালের বিবর্তন ছাএ সংগঠন গুলোও আরও ঐ ভাবে নুর হোসেন দিবস পালন করে না শুধু নুর হোসেন স্কয়ার এ ফুল দেওয়ার মাধ্যমেই কর্মসূচী সমাপ্ত করে

শাহীন নুর হোসেন জীবন দিয়েছিলেন একটি গনতান্তিক ও অসাম্পদায়িক সমাজ গঠনের জন্য্য কিন্তু আজ যখন এিশ বছর পর সাম্পদায়িক শক্তি এদেশে সাম্পদায়িকতা সৃস্টি করে পূজামণ্ডপ ভাংচুর করে তখন কি আমারা ভাবতে পারি না আজো নুর হোসেনের স্বপ্ন সফল হয়ে নি তাই নুর হোসেন স্বপ্ন বাস্তবায়ন জন্য্য আমাদের আবার নতুন করে সফত নিয়ে কাজ করতে একটি অসাম্পদায়িক সমাজ গঠন জন্য আর এই অসাম্পদায়িক সমাজ গঠন করলেই সফল হবে শহীদ নুর হোসেন স্বপ্ন।