বিজয়নগর থানা ওসি) মির্জা মোহাম্মদ হাছান মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষনা

প্রকাশিত: ৬:২৭ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৫, ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সীমান্তবর্তী বিজয়নগর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে তিনটি ইউনিয়নের বেশি অংশ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত।এ সীমান্ত পথে ভারত থেকে মাদক বাংলাদেশে আসে।সীমান্তবর্তী বিজয়নগর উপজেলায় ছোট বড় প্রায় ৯০জনেরও বেশি মাদক ব্যাবসায়ী রয়েছে।মাদক ব্যাবসা করে অনেকেই আলিশিয়ান বাড়ি,বাজারে দোকান জমিসহ বর্তমানে কোটি টাকার মালিক।এসব মাদক ব্যাবসায়ীর অনুসারী ২-৩ শতাতিক হবে। বিজয়নগরে যে কোন জায়গায় প্রকাশে মাদক পাওয়া যেত।যদিও মাঝে মাঝে মাদক ধরা পড়ত।বিগত বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দায়িত্বপ্রাপ্ত কালে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখলেও তেমন মাদক দমন করতে পারেনি।

মাদকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহনের সিদ্ধান্তে পুলিশও কঠোর অবস্থানে মাঠে নেমেছে মাদকের বিরুদ্ধে ।যার ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালের(১৫জুলাই)ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মির্জা মোহাম্মদ হাছান যোগদান করেই এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন।

মাদক একটি সামাজিক সমস্যা ও পারিবারিক অশান্তির মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।যা দমন করা না হলে দেশকে এগিয়ে নেয়া যাবে না। বিজয়নগর উপজেলাকে মাদকের অভিশাপ থেকে মুক্ত করে,মাদকমুক্ত সুন্দর সমাজ নতুন প্রজন্মকে উপহারের লক্ষ্যে তিনি মাদক দমনে সবাইকে সাথে নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলেন।

বিজয়নগর থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)মির্জা মোহাম্মদ হাছান যোগদানের পর মাত্র (৯মাসেই) রেকর্ড পরমিান মাদক দ্রব্য উদ্ধারসহ মাদক ব্যাবসায়ী গডফাদারদের গ্রেপ্তার করেছে।

এ মধ্যে ২০২১ সালের জুলাই থেকে ৩১মার্চ ২০২২ পর্যন্ত ২ কোটি ৫৬ লাখ ৮১ হাজার ৪০০ টাকার মাদক দ্রব্য উদ্ধার করেছে বিজয়নগর থানার পুলিশ। এ সময় ৩৮২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।একেই সময়ে থানায় তাদের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন মোতাবেক ২৭৫ টি মামলা দায়ের করা হয়।

উদ্ধারকৃত মাদক দ্রব্য মধ্যে রয়েছে ,১১৬২ কেজি ১০০ গ্রাম গাঁজা,২৫৪৮ বোতল ফেনসিডিল, ১৪৯৩৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৩১১৪ বোতল স্কফ সিরাপ,১১৪ ক্যান বিয়ার, ৬৬ বোতল হুইস্কি, ৩৪ লিটার চোলাই মদ, ৫০ বোতল বিদেশী মদ।

এ ছাড়া জুয়ারি,মাদকসেবীকে ভ্রাম্যমান আদালতে মাধ্যে কারাদণ্ড,দাঙ্গা হাঙ্গামা রোধে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার, চোর, ডাকাত,র্শীষ মাদক ব্যবসায়ী,মাদকসেবী,গুরুত্বপূর্ণ মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল,মামলা নিষ্পত্তিসহ সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ অবদান রাখেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)মির্জা মোহাম্মদ হাছান।

ওসি মির্জা মোহাম্মদ হাছান এমন দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা,আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যাবতীয় কর্মকাণ্ডে কৃতিত্বের জন্য শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন উপজেলার বিভিন্ন সচেতন মহল।

এ ব্যাপারে নিজস্ব প্রতিবেদকের,সাথে আলাপকালে বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)মির্জা মোহাম্মদ হাছান বলেন,মাদক এবং মাদক বিক্রেতা দেশ ও জাতির শত্রু।বিজয়নগর থানায় যোগদানের পর থেকে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছি। বিশেষ করে ব্রাহ্মণাবাড়িয়া জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার ও সার্কেল এসপি মহোদয়ের দিক নির্দেশনায় বিজয়নগরকে মাদকমুক্ত করতে পুলিশের পক্ষ থেকে যুদ্ধ ঘোষণার মাধ্যমে কঠোর অভিযান চালিয়ে ইতিমধ্যে র্শীষ মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তারসহ মাদক উদ্ধার, মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, ওয়ারেন্ট তামিল,করতে সক্ষম হয়েছি।

তিনি বলেন,আমি চাকরিতে যোগদানের পর থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত অঞ্চলকে সন্ত্রাস ও অপরাধের কবল থেকে মুক্ত রাখতে একাগ্রচিত্তে কাজ করে যাচ্ছি।কিছু পাওয়ার বিনিময়ে নয়,হৃদয়ের চাওয়া নিয়ে আমার অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ সেবা প্রদানে বদ্ধপরিকর ছিলাম,এখনও আছি। সে উদ্দেশ্যেই এলাকার মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূল করতে জিরো টলারেন্স দেখাতে সচেষ্ট ছিলাম,এখনও আছি।

ওসি বলেন, আধুনিক ও উন্নত বাংলাদেশ গড়তে পুলিশ-জনতার মেলবন্ধনের বিকল্প নেই।আমার সব সময়ের চাওয়া, জনগণের নিরাপত্তা প্রদানের স্বার্থে সার্বক্ষণিক দায়িত্বশীল থাকা।আমাকে জানানো বিভিন্ন মহলের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন আমাকে আরো আন্তরিকভাবে কাজ করার প্রেরণা জোগাবে।

তিনি আরোও বলেন,আগামীর পথচলায় আমার এই অবস্থান এবং দায়িত্ব যেন অতীতের মতো পালন করতে পারি, আপনাদের কাছে সেই দোয়া চাই।পাশাপাশি মাদক ও সন্ত্রাসসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে সকলের সহযোগিতা কামনা করি।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার ( সদর –বিজয়নগর)সার্কেল মোহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেন রেজা বলেন,মাদকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহনের সিদ্ধান্তে পুলিশও কঠোর অবস্থানে মাঠে নেমেছে।মাদকের সাথে কোন আপোষ নেই, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(অপরাধ ও প্রশাস) মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন বলেন,মাদক থেকে সমাজে সকল অপরাধের সৃষ্টি হয়। মাদকের সাথে,মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে কোন ধরনের আপোষ নয়।দ্রুতই জেলা জুড়ে মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হবে। এই অভিযানে শুধু চুনোপুটি নয়, রাঘব বোয়ালদেরকে গ্রেপ্তার করা হবে। শুধু মাদক সেবী, মাদক ব্যবসায়ী নয়, মাদকের গড ফাদারকে গ্রেপ্তার করা হবে।মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে কাজ করতেছি।