ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের আত্মকথা’ গ্রন্থে সম্পাদকের নিবেদন

প্রকাশিত: ১১:৪৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২১

স্রোতকে যেমন আলাদা করা যায় না নদীর থেকে, তেমনি শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের (১৮৮৬-১৯৭১) নাম পৃথক করা যায় না বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে। সে-ইতিহাসের আগের যে-ইতিহাস, সেই পর্বেরও এক শক্তিমান চরিত্র তিনি। ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভারতে ব্রিটিশশাসন-বিরোধী সংগ্রামের সৈনিক, পাকিস্তান-রাষ্ট্রে বাংলাভাষার মর্যাদা-প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের প্রবর্তক, বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বাপ্নিক। এর প্রতিটি পর্যায়ে নিজের বিশ্বাস ও কর্মের জন্যে মূল্য দিয়েছেন তিনি— সর্বাধিক মূল্য দিয়েছেন ১৯৭১-এর মার্চে। তখন তিনি নিজের হাতে কুমিল্লার বাড়িতে তুলেছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। তার কয়েকদিনের মধ্যেই তাঁর রক্তে সিঞ্চিত হয়েছিল বাংলাদেশের মাটি। তাঁর আর সকল কাজের মতো সে আত্মদানও বৃথা হয়নি। যে-মাটিতে বোনা হয়েছিল স্বাধীনতার বীজ, সে-মাটি উর্বর হয়েছিল তাঁর রক্তে,—ফসল ফলতে দেরি হয়নি।
কুমিল্লার এক অখ্যাত পল্লির সাধারণ পরিবারে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের জন্ম হয় ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে—ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠালাভের এক বছর পরে। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ সমকালীন আরো অনেকের মতো স্বভাবতই তিনিও যুক্ত হয়েছিলেন কংগ্রেসের রাজনীতিতে। সশস্ত্র সংগ্রামের সঙ্গেও তিনি সম্পর্কিত হতে পারতেন—তাঁর চারপাশের আবহাওয়ায় সেই ঝোঁকটাও কিছু কম ছিল না। কিন্তু তিনি যে সেদিকে যাননি, তার কারণ, নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির প্রতি ছিল তাঁর সহজাত প্রবণতা। তিনি ছিলেন সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিষ্য, আবদুল্লাহ্ রসুলের [আবদুর রসুল] অনুপ্রেরণায় প্রণোদিত, গান্ধীর অনুসারী, সুভাষচন্দ্র বসুর সহকর্মী। অল্প সময়ে যে তিনি কংগ্রেসের প্রথম সারির নেতা হয়ে উঠেছিলেন, তার মূলে ছিল তাঁর আন্তরিকতা ও একনিষ্ঠতা, আত্মত্যাগ ও একাগ্রতা, শারীরিক সহিষ্ণুতা ও নৈতিক শক্তি। (অংশ)
সূত্র: ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত : জীবন ও কর্ম/মিনার মনসুর (বাংলা একাডেমি, ২০১২) সুএ দৈনিক ইওেফাাক