বিজয়নগরে পর্যটন কেন্দ্রের জায়গা পরিদর্শন।

প্রকাশিত: ৩:২৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২২, ২০২১

বিজয়নগরে পর্যটন কেন্দ্রের জায়গা পরিদর্শন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় দেশের পর্যটন কেন্দ্র প্রসারের লক্ষ্যে জায়গা নির্ধারণ ও পরিদর্শন করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার ২১ জানুয়ারি ২০২১ ইং বিকাল ৫ টায় উপজেলা বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের পূর্বাঞ্চল কালাছড়া গ্রাম সংলগ্ন ( সাবেক হরিহোড় টি স্টেট ) এলাকায় পর্যটন কেন্দ্রের লক্ষ্যে জায়গা পরিদর্শনে আসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ৩ আসনের এমপি যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও সামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী (এম পি) ও বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ডের চেয়ারম্যান মোঃ জাবেদ আহমেদ।

এমপি মুক্তাদির চৌধুরী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত কালাছড়া এলাকায় আমি নিজে এই এলাকাতে ১৯৭১ সনে ছিলাম, এখানে বহু মুক্তিযোদ্ধার কবর রয়েছে গণকবর রয়েছে এবং এ পথ ধরে মুক্তিযোদ্ধারা ভারত থেকে যুদ্ধের ট্রেনিং শেষে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছে এবং হানাদার বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করেছে।
এসব স্মৃতিকে জাগ্রত রাখতে এখানে একটি পর্যটন রিসোর্ট তৈরি করা হবে,এবং গণকবরের এখানে একটি মনুমেন্ট তৈরি করা হবে।

বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ডের চেয়ারম্যান মোঃ জাবেদ আহমদ বলেন বাংলার অপরূপ সৌন্দর্য এখানে না আসলে আমি হয়তো বুঝতাম না, গ্রামীণ পর্যটন বিকাশ সরকারের একটি অন্যতম লক্ষ্য, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি রক্ষার্থে বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ড রিসোর্স সেন্টার তৈরি করবে এখানে, যারা ভ্রমণ পিপাসু মানুষ যাহারা পর্যটক তাদেরকে আকৃষ্ট করবে। এখানে আসা মানুষরা মুক্তিযুদ্ধকে জানবে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সম্পর্কে জানবে পর্যটনে আসা পর্যটকদের পদচারণায় এলাকা হবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধশালি ।

এলাকার প্রবীণ দের সাথে কথা বলে জানা যায়, পাহাড়ী জনপদ অপূর্ব সৌন্দর্যের লীলাভূমি, এখানে ব্রিটিশ শাসন আমলে ” হরিহর টি স্টেট ” নামে চা বাগান ছিল,কালের আবর্তে ভূমিদস্যুদের থাবায় তা আজ বিলুপ্ত, ২০০০ থেকে ২০০৫ সালের ভেতরে তার সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়, বিলুপ্তির পর এখানে ডাচ ডেইরি নামের একটি কোম্পানি এসে ভুট্টা এবং গবাদি পশু খাদ্য চাষ করছে।
এক প্রবীণ মুরব্বি আক্ষেপ করে বলেন, বহু আগে থেকেই এখানে চা বাগান ছিল মনোরম পরিবেশে চা শ্রমিকরা কাজ করতো দিনে রাতে, নিরব এলাকাতে চা বানানোর মেশিনের ঝকঝক শব্দ কতই না আনন্দ পেতাম, চা শ্রমিক পাহাড়ি ও বাঙালি মিলেমিশে বসবাস করিতাম । এখন শুধু আক্ষেপ ছাড়া আর কিছুই নয়।

এ পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান নাসিমা লুৎফর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ) কে এম ইয়াসির আরাফাত, সহকারী কমিশনার ভূমি মাহবুবুর রহমান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শাহিনুর জাহান, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রাসেল খান, প্রেসক্লাবের সভাপতি মৃণাল চৌধুরী লিটন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, এলাকার গণ্যমান্য নেতৃবৃন্দ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।