অরুয়াইল বাজারে দখলদারদের থাবা থেকে রক্ষা পায়নি টয়লেটও

প্রকাশিত: ৬:৩৬ অপরাহ্ণ, জুন ২৮, ২০২০

বিজয়নগরনিউজ।। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের অরুয়াইল বাজারে রয়েছে প্রায় ৮শতাধিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে এই বাজারটিতে আশপাশের এলাকা গুলোতে থেকে প্রতিদিন প্রায় ২৫ থেকে ৩০হাজার লোক সমাগম হয়। এই বাজারের দোকান ও জায়গার মূল্য জেলা শহরের কিছু জায়গা থেকে অনেক বেশি। তাই তিতাস নদীর তীরের এই বাজারে সরকারি জায়গা দখলে মরিয়া প্রভাবশালীরা। তাদের থাবা থেকে রক্ষা পায়নি এই বাজারের টয়লেট গুলো পর্যন্ত। স্থানীয় কয়েক জন ব্যবসায়ীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, বাজারের জায়গার মূল্য অনেক। তাই কিছু প্রভাবশালী বাজারের ভেতরের সরকারি জায়গা দখলের পর দখল করে যাচ্ছে। তারা বাজারের পাশে দিয়ে বয়ে যাওয়া তিতাস নদীর জায়গাও দখল করে রেখেছেন। এনিয়ে চলতি মাসেই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারি জায়গা চিহ্নিত করে লাল দাগ দিয়ে গেছেন। তারা আরও জানায়, দখলদারদের কবল থেকে রক্ষা হয়নি বাজারের দুই টয়লেটও। দখলদাররা বাজারের ভেতরের টয়লেটকে কাঠের গোডাউন বানিয়ে ফেলেছেন। সেখানে লাকড়ি স্তুপ করে পাহাড়ে পরিনত করে ফেলা হয়েছে। টয়লেটের আশপাশের পা রাখার জায়গা টুকু নেই। অপর টয়লেটটি চা চায়ের দোকান বানানো হয়েছে। টয়লেটের দরজার বাইরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চায়ের দোকানদার বলেন, এইখানে আমি দীর্ঘদিন যাবত চায়ের স্টল দিয়ে ব্যবসা করছি। এই বাজারে স্থায়ীভাবে বসে ব্যবসা করতে আমাকে একটি জায়গা দেওয়ার কথা ছিল। সেই জন্য ইউপি আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব আমার কাছ থেকে ৫হাজার টাকা নিয়েছেন। কিন্তু সেই জায়গার কোন খবর নাই। অরুয়াইল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূইয়া বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে টয়লেট দখলদারকে জরিমানা করা হয়েছে। আমরা আবারও টয়লেট থেকে কাঠের গোডাউন উচ্ছেদ করব গ্রাম পুলিশ নিয়ে। কিন্তু অপর টয়লেটটি থেকে চায়ের দোকানটি কিছু করতে পারব না। কারণ তা দিয়েছে আওয়ামী লীগের সভাপতি, তার সাথে লড়াইয়ের ক্ষমতা আমার নাই। এবিষয়ে সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এস এম মোসা বলেন, অরুয়াইল বাজার এলাকায় সরকারি জায়গায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে আমরা জেলা প্রশাসনে সাথে কথা বলেছি। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব দখল উচ্ছেদ করবো।