ঘরে ২৪ মাসের শিশু, দিনরাত মানুষের সেবায় বিজয়নগরের পিআইও শাহীনূর জাহান

প্রকাশিত: ৯:০৪ অপরাহ্ণ, মে ১৪, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক : ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শাহীনূর জাহানের মেয়ে ফাতেমা বিনতে রাশেদ বয়স ২৪ মাস। মা ঘরে এলেই ছুটে এসে কোলে উঠতে চায় ছোট্ট ওই শিশু।

কিন্তু নিজেকে ভালোভাবে জীবাণুমুক্ত না করে কোলে না নিতে পারার যন্ত্রণা হয়তো তাড়া করে বেড়ায় দুজনকেই। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে প্রতিদিন শাহীনূর জাহান।

পরিবারের সদস্যদের মায়া ত্যাগ করে বিজয়নগর উপজেলায় শাহীনূর জাহান দিন-রাত কাজ করছেন দেশের জন্য, মানুষের জন্য।

করোনা ভাইরাসের এই সময়ে জনগণকে সেবা দিতে ভয় নয়, ২৪ মাস বয়সী দুধের শিশু সন্তানকে নিয়ে বিপাকে পড়ে ছিলেন শাহীনুর জাহান । তবে সব বাঁধা পেরিয়ে শাহীনূর জাহান নিজেকে পুরোপুরি জনগণের সেবার জন্য নিয়োজিত রেখেছেন। তিনি এই সময়ে স্বামীর সাপোর্টটাও পাচ্ছেন না। স্বামী সরকারী চাকুরী করেন বিধায় তিনি আছেন নিজ কর্মস্থলে দায়িত্বে।

জানা যায়, করোনা উপেক্ষা করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বরাদ্দকৃত জিআর চাল, নগদ অর্থ ও শিশু খাদ্য উপজেলা প্রশাসনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগে উপবরাদ্দ করা হয়।

অতঃপর, বরাদ্দ প্রাপ্তি থেকে শুরু করে উপ-বরাদ্দ জারি, অপারেশন ম্যানুয়াল অনুসারে বিজয়নগর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ওয়ার্ড কমিটি ও ইউনিয়ন কমিটির মাধ্যমে কর্মজীবী কর্মহীনদের তালিকা প্রস্তুত করাসহ তদারকি কর্মকর্তার উপস্থিতি নিশ্চিত করে পর্যায়ক্রমে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের প্রতিটি পরিবারে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজটি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শাহীনূর জাহান করে চলেছেন।

(পিআইও) শাহীনূর জাহান শিশু সন্তান রেখে কর্মস্থলে সাধারণ মানুষের জন্য তার এই যুদ্ধকে প্রশংসনীয় বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শাহীনূর জাহান প্রতিবেদককে জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহের নিগার মহোদয়ের নির্দেশনা মোতাবেক বিতরণ যাতে সঠিকভাবে হয় এজন্য সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে বিতরণ করতে হয়। এ সময় উপকারভোগীরা কেউই স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে খাদ্য সামগ্রী গ্রহণ করেন না। ফলে ঝুঁকি নিয়েই কাজ করতে হয় ।

তিনি আরও বলেন, ২৪ মাস বয়সী মেয়ে ফাতেমা বিনতে রাশেদকে সামলাতে এলাকা থেকে একজন গৃহকর্মী নিয়ে এসেছি। কিন্তু এমনও হয়েছে যে কাজের মধ্যেই খবর পেলাম মেয়েটা কাঁদছে তখন ছুটে আসতে হয়। আবার কখনো তাৎক্ষণিক ছুটে আসাও সম্ভব হয় না। দেশের এই ক্রান্তি লগ্নের কথা মাথায় রেখে এভাবেই মানিয়ে চলছি। এমন পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত সমস্যার চেয়ে জনস্বার্থ অনেক জরুরি। এতে তিনি নিজেও আনন্দিত বলে জানান।