ব্রাহ্মনবাড়ীয় প্রবাসফেরত পাচজনকে হোম কোয়ারান্টাইন

প্রকাশিত: ৭:০১ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৪, ২০২০

বিজয়নগরনিউজ ।। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রবাসফেরত পাঁচজনকে গৃহে অন্তরীণ (হোম কোয়ারেন্টাইন) রেখেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। তাদের মধ্যে একজন মহিলা এবং চারজন পুরুষ। সম্প্রতি তারা ইতালী, মধ্যপ্রাচ্যের দুবাই ও সৌদিআরব থেকে দেশে ফিরেছেন এবং সকলেই জেলার আখাউড়া উপজেলার বাসিন্দা। জানা যায়, জেলার আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তিন যুবক গত ১২ মার্চ ইতালি থেকে দেশে ফিরেন। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের দুবাই ও সৌদিআরব থেকে অতি সম্প্রতি এক মহিলাসহ দুইজন দেশে ফিরেন। তারাও একই উপজেলার ভিন্ন ভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। তবে আতঙ্ক যাতে না ছড়ায় সেজন্য প্রবাসফেরত ওই পাঁচজনের নাম-পরিচয় জানাতে চায়নি স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে এদের সবাইকে ১৪ দিন গৃহে অন্তরণ (হোম কোয়ারেন্টাইন) থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশেদুর রহমান জানান, ‘আখাউড়া উপজেলায় পাঁচজন হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে। তারা সম্প্রতি ইতালী, দুবাই ও সৌদিআরব থেকে দেশে ফিরেছেন।’ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহ আলম জানান, ‘তাদের মধ্যে করোনা ভাইরাসের কোনো লক্ষণ বা উপসর্গ নেই। তারা সুস্থ আছেন। আমরা তাদেরকে ১৪ দিন পর্যবেক্ষণে রাখব।’ এদিকে এখন পর্যন্ত জেলার কোথাও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কোনো রোগীর সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে প্রস্তুতি হিসেবে জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। ইতোমধ্যে জেলার বিজয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিকে ‘কোয়ারেন্টাইন’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সেজন্য স্বাস্থ্য কমেপ্লক্সের নারী ও পুরুষ ওয়ার্ডটি প্রস্তুত করা হয়েছে। করোনা আক্রান্ত কিংবা করোনার লক্ষণ বা উপসর্গ আছে এমন রোগীদের সেখানে রেখে পর্যবেক্ষণ করা হবে। তবে করোনা ভাইরাস পরীক্ষায় প্রয়োজনীয় যন্ত্র নেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরকারি-বেসরকারি কোনো হাসপাতালে। কাউকে সন্দেহ হলে তাকে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) পাঠানো হবে। সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহ আলম বলেন, ‘আমাদের এখানে করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করার জন্য কোনো নির্দেশনা নেই। যদি সন্দেহ হয় তাহলে আমরা আইইডিসিআর-এ পাঠাবো। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যদি মনে হয় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল অথবা চীন-মৈত্রী হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হবে। কিন্তু এ ধরণের রোগী আমরা এখনও পাইনি।’