মাতৃভাষা আন্দোলন দেশে দেশে

প্রকাশিত: ১০:৩৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২০

বিজয়নগর নিউজ।। মানুষ জন্মগ্রহণ করার পর মায়ের মুখ থেকে যে ভাষা শিখে, সেই ভাষাকে আমরা বলে থাকি মাতৃভাষা। ধারণা করা হয় কয়েকটি অঞ্চলের আদিভাষা বহুভাবে রূপান্তরিত হয়ে বিভিন্ন ভাষার জন্ম দিয়েছে। ভাষা গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী বিশ্বে প্রায় সাত হাজারের মতো ভাষা রয়েছে। ৬৯১২টির এর মধ্যে অনেক জাতি গোষ্ঠীর অনেক মাতৃভাষা বিলুপ্ত হয়েছে। কিছুকিছু ভাষা বিলুপ্তির পথে। জাতিসংঘের শিক্ষা বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংস্থা (UNESCO) ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ২১ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার সাথে সাথে বিশ্বের সচেতন মানুষদের জন্য কিছু কিছু দায়িত্ব আপনা থেকেই বেড়ে গেছে। তা হলো নিজের ভাষার প্রতি মানুষের যে সহজাত টান রয়েছে তার পাশাপাশি অপরের মাতৃভাষার প্রতিও সমান শ্রদ্ধা দেখানো এবং লুপ্তপ্রায় ভাষাগুলোকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ। প্রায় প্রতিটি দেশেই কিছু কিছু ভাষা আছে সংখ্যা গরিষ্ঠের, কিছু ভাষা আছে সংখ্যা লঘুর। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় শাসকগণ তাদের ভাষাকে প্রাধান্য দিয়ে অন্যদের ভাষাকে অবজ্ঞা করেন। এ থেকেই শুরু হয় সংঘাত, শুরু হয় লড়াই। ভাষার যুদ্ধ দেশে দেশে : বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মাতৃভাষাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় প্রতিষ্ঠা করার জন্য বা সরকারি স্বীকৃতি আদায়ের জন্য বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন আন্দোলন করতে হয়েছে এবং এখনো আন্দোলন করতে হচ্ছে বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষদের। দক্ষিণ আফ্রিকা : দক্ষিণ আফ্রিকায় ভাষার আন্দোলনে জীবন বিসর্জন দিয়েছে ২০০ মানুষ। যাদের অধিকাংশ শিক্ষার্থী কিশোর কিশোরী। আমেরিকা : আমেরিকার স্থানীয় অধিবাসীদের ভাষা রক্ষার জন্য দীর্ঘ ২০ বছর আন্দোলন করতে হয়েছে সেখানকার আদিবাসীদের। তাইওয়ান : দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে জাপানী ভাষার বিরুদ্ধে এবং পরবর্তীতে চীনা ভাষার বিরুদ্ধে অনেক জীবন হারাতে হয়েছে তাইওয়ানের নাগরিকদের। ভাষার জন্য আন্দোলন হয়েছে কানাডা, রাশিয়া, বেলজিয়াম সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। শুধু মাত্র ভারত উপমহাদেশেই ভাষা আন্দোলনে নিহত হয়েছে কয়েক হাজার মানুষ। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এর বলি হয়েছেন অগণিত মানুষ। তামিল ভাষার আন্দোলন : ভারত স্বাধীনতার পূর্বে ১৯৩৭ সালে তামিলনাড়ুতে প্রথম হিন্দি বিরোধী আন্দোলন শুরু হয়। এ আন্দোলনে ২জন নিহত ও ১১৯৮ জন গ্রেপ্তার হয়। স্বাধীনতার পর এ আন্দোলন আরো তীব্রতা পায়। ১৯৪৮-৪৯ শিক্ষাবর্ষে হিন্দিকে বাধ্যতামূলক করে হিন্দিতে ন্যূনতম নাম্বার প্রাপ্তিও বাধ্যতামূলক করা হলে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে ছাত্র সমাজ। ১৯৬৫ সালের ২৬ জানুয়ারি হিন্দিকে একমাত্র সরকারি ভাষা ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের সাথে তামিলনাড়ুতে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। এ বিক্ষোভে দুই জন পুলিশ সহ ৭০ জন মানুষ প্রাণ হারায়। মাতৃভাষাকে সরকারি ভাষা করার দাবিতে এবং মাতৃভাষায় লেখা-পড়ার অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে দীর্ঘদিন সংগ্রাম ও আন্দোলন করতে হয়েছে বিভিন্ন রাজ্যের মানুষদের। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য তেলেগু ভাষার আন্দোলন, গোয়া-তে কোঙ্কণী ভাষা আন্দোলন, কর্ণাটকের কান্নাড়া ভাষা আন্দোলন, পাঞ্জাবী সুবা আন্দোলন নামে পরিচিত পাঞ্জাবী ভাষার আন্দোলন, উড়িষ্যার ওড়িয়া ভাষা আন্দোলন, বিষ্ণুপ্রিয়া মনিপুরী ভাষা আন্দোলন, এছাড়াও মিজো, খাসিয়া, নাগা, মনিপুরী, ত্রিপুরা প্রভৃতি ভাষাভিত্তিক পৃথক রাজ্যের জন্য বিভিন্ন আন্দোলন। যার অনেকগুলোই সহিংস রূপ ধারণ করেছিল। আন্দোলন চলছে কোলশি ভাষাকে সরকারি স্বীকৃতির জন্য উড়িষ্যায়ও। এবার আসি বাংলা ভাষা প্রসঙ্গে : বাংলা ভাষায় কথা বলা কখন থেকে শুরু হয়েছিল তা নিয়ে মতভেদ আছে। ড.মুহাম্মদ শহীদুল্লার মতে খ্রিস্টের জন্মের প্রায় ৪ হাজার বছর পূর্বে এ অঞ্চলে বাংলা ভাষার প্রচলন হয়। তবে এর লিখিত রূপের নিদর্শন পাওয়া যায় অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীতে চর্যাপদে। বঙ্গ কামরুপী ভাষায় চর্যাপদগুলো লিখিত।এর মধ্যে রয়েছে বাংলা, হিন্দি মেনিলী অসমীয়া ও উড়িয়া ভাষা। ১৯৪৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় প্রমাণ করেন যে চর্যাপদের ভাষাই আদিবাংলা। মূলত দক্ষিণ এশিয়ায় বাঙালি জাতির প্রধানভাষা বা মাতৃভাষা বাংলা। বাংলাদেশ, ভারতের পশ্চিম বঙ্গ, ত্রিপুরা ও আসামের কিছু অংশ মূলত বাংলা ভাষাভাষীদের আবাস স্থল।

এছাড়া, ঝাড়খণ্ড, আন্দামান, বিহার, মিজোরাম, মেঘালয়, উত্তর প্রদেশ, উড়িষ্যা, ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু ও রাজধানী দিল্লিসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বাঙালির বসবাস। স্বাধীন সার্বভৌম জাতিরাষ্ট্র বাংলাদেশের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা তথা সরকারি ভাষা বাংলা। ভারতের পশ্চিম বঙ্গ রাজ্য, ত্রিপুরা রাজ্য এবং আসামের বরাক উপত্যকার সরকারি ভাষাও বাংলা। বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের প্রধান কথ্য ভাষা বাংলা। আফ্রিকার দেশ সিয়েরালিওন বাংলাকে তাদের সরকারি ভাষা হিসেবে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে। ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যেও উল্লেখযোগ্য বাংলাভাষী মানুষ অভিবাসী রয়েছে। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাতে বাংলাভাষীদের বিশেষ বিশেষ অঞ্চল গড়ে উঠেছে। পাকিস্তানের করাচীতেও প্রায় ৩০ লক্ষ বাঙালি বাস করে।ভাষা নিয়ে তাদের নানা বৈষম্যের শিকার হতে হয়। তবে করাচী সিটি কর্পোরেশন বাংলাকে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। যুক্তরাজ্যে স্বীকৃত ১০টি অভিবাসী ভাষার মধ্যে বাংলা ভাষার অবস্থান ৫ম। বাংলা বর্ণমালায় লেখা হয়ে থাকে বাংলা,মনিপুরী, ককবরক ও অসমীয়া ভাষা। বাংলা ভাষা আন্দোলন : বাংলাভাষাকে রাষ্ট্র ভাষার মর্যাদায় প্রতিষ্ঠা করতে বাংলাদেশ তথা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের নাগরিকদের যে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে সে কথা সবারই জানা। বৃটিশ ভারত থেকে বিভক্ত হবার পর ১৯৪৮ সালে পাকিস্তান সরকার ঘোষণা করে উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। এ ঘোষণায় বিক্ষোভে ফেটে পড়ে বাঙালি জনগোষ্ঠী। শুরু হয় রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন। অর্ধযুগ স্থায়ী ছিল এ আন্দোলন। ১৯৫২ সালে ২১ শে ফেব্রুয়ারি ঢাকায় শহীদ হন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউল, আউয়াল সহ নাম না জানা আরো অনেক মানুষ। আন্দোলন হয়ে উঠে আরো জোরদার। এর প্রেক্ষিতে ১৯৫৪ সালের ৭মে পাকিস্তান গণ পরিষদে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা স্বীকৃতি দেয়া হয়। এবং ১৯৫৬ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারি প্রথম সংবিধান প্রণীত হলে বাংলা ও উর্দু পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্থান পায়। বাংলাদেশের বাঙালিদের ভাষার জন্য এই জীবন-দানের ঘটনাকে স্মরণীয় করতে UNESCO ২১ ফেব্রুয়ারীকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সম্মান দিয়েছে। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ধারণা বাংলা ভাষার জন্য শুধু বাংলাদেশের মানুষই প্রাণ দিয়েছে। কিন্তু তা নয় বাংলা ভাষার দাবিতে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন সময় হয়েছে ভাষার সংগ্রাম, জীবনও দিতে হয়েছে অনেককে। মানভূম আন্দোলনঃ বাংলা ভাষার জন্য প্রথম আন্দোলনটি সংঘটিত হয়েছিল বৃটিশ ভারতে ১৯১২ সালে মানভূম জেলাকে (বর্তমান পুরুলিয়া জেলা) বিহার ও ওড়িষ্যার সাথে সংযুক্ত করাকে কেন্দ্র করে। বাংলাভাষী জেলা মানভূমকে ভারতের বিহার ও ওড়িশ্যার সাথে সংযুক্ত করলে এর প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু হয়। মানভূম বাসীরা তাদের জেলাকে বাংলার সাথে যুক্ত করার দাবি জানায়। সেই আন্দোলন থেকে ভাষার দাবিও যুক্ত হয়। ভারত স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৫৬ সালে নতুন জেলা গঠনের মধ্যদিয়ে সে দাবি বাস্তবায়িত হয়।

বরাক উপত্যকায় বাংলা ভাষা আন্দোলনঃ ভারতে বাংলাভাষাকে সরকারি ভাষা করার দাবিতে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম হয়েছিল আসামের বরাক উপত্যকার। ১৯৬০ সালে আসামে অসমীয়া ভাষাকে আসামের একমাত্র দাপ্তরিক ভাষা ঘোষণার প্রতিবাদে এবং সাথে বাংলাকেও দাপ্তরিক ভাষার মর্যাদা দেওয়ার জন্য আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৬১ সালের ১৯ শে মে শিলচরে জনতার বিক্ষোভে গুলি চালালে একজন নারী সহ ১১জন নিহত হয়। এই ঘটনায় বিক্ষোভ উত্তাল হলে আসাম সরকার বাংলাকেও সরকারি ভাষা হিসেবে ঘোষণা দিতে বাধ্য হয়। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ১৯ মে বরাক অঞ্চলে বাংলা ভাষার শহীদ দিবস হিসেবে পালিত হয়। ঝাড়খণ্ড : পশ্চিম বঙ্গের প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ড প্রাচীন বঙ্গের পশ্চিম অংশ রাঢ় অঞ্চলের অংশবিশেষ। এই রাজ্যে একাধিক জেলার বাঙালি সংখ্যাগরিষ্ঠ। হিন্দি, উর্দু ও ইংরেজি রাজ্যের সরকারি ভাষা হলেও বাংলা আজও সরকারি ভাষার পূর্ণ মর্যাদা পায়নি। ২০১০ সালে বাংলাকে রাজ্যের দ্বিতীয় সরকারি ভাষা ঘোষণা করা হলেও এখন পর্যন্ত তা পূর্ণ কার্যকর হয়নি। এই রাজ্যের বাঙালি শিক্ষর্থীরা নানা বঞ্চনার শিকার হচ্ছে। দিল্লি : ভারতের রাজধানী দিল্লিতে প্রায় ২৫ লক্ষ বাঙালির বাস। দিল্লিতে বাঙালিরা নানা বঞ্চনার শিকার। সেখানেও চলছে বাঙালির মাতৃভাষার দাবিতে আন্দোলন। বাংলা ভাষার দাবিতে মানভূম ও আসাম সফল হলেও ঝাড়খণ্ড, বিহার, ছত্তিশগড়, কর্ণাটক ও দিল্লিতে বাংলা ভাষার দাবি এখনো অব্যাহত আছে। ভাষার বিবর্তন ও প্রমিত উচ্চারণ চর্চা : হাজার বছরের ধারাবাহিকতায় বাংলা ভাষা আজ বর্তমান রূপ লাভ করেছে। দীর্ঘ দু্থশ বছরের ঔপনিবেশিক শাসন আমাদের অনেক পিছিয়ে দিয়েছে। বঞ্চিত করেছে আমাদের অনেক কিছু থেকেই। আর পিছু ফেরার সময় নেই। এখন আমাদের এগুতে হবে সমুখে। ভাষা দিনে দিনে সমৃদ্ধ হচ্ছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা ভাষায় আমাদের নোবেল এনে দিয়েছেন। বিশ্বে আজ গর্বের সাথে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে বাংলা ভাষা। ভাষা সচল এবং গতিশীল। মাত্র দেড়’শ-দু’শ বছর আগে আমরা যেভাবে বাংলাকে ব্যবহার করতাম এখন আর তেমনটি করিনা। বঙ্কিমের বাংলা, মধুসূদনের বাংলা থেকে এখনকার বাংলা অনেক আধুনিক। ভাষা একটি গতিশীল নদীর মতো বহমান। যেতে যেতে কোথাও কোথাও বাঁক নেয়। কিছুটা গতি পরিবর্তন করে আবারো চলতে থাকে। আমরা সে স্রোতে গা ভাসাব ঠিকই, কিন্তু মনে রাখতে হবে যেন উৎস থেকে, তার মৌলিকত্ব থেকে বেরিয়ে না যাই। ইদানীং আমাদের কিছু কিছু সাহিত্যে, মিডিয়াতে, FM রেডিওতে, নাটকে, গল্পে, গানে যেভাবে ভাষার বিকৃত ব্যবহার দেখা যাচ্ছে তাতে শংকা জাগে মৌলিকত্ব হারানোর। আমি বলছি না যে আঞ্চলিক ভাষা থাকবে না। আঞ্চলিক ভাষা থাকবে নিজ নিজ অঞ্চলে। তবে গোটা বিশ্বে প্রমিত বাংলা ভাষা হবে একটাই। সেটার অনুশীলন করতে হবে শিশুকাল থেকে। স্কুলে বর্ণ পরিচয়ে অনেক শিক্ষকই শিশুদের ভুল উচ্চারণে, ভুলনামে বর্ণগুলোর নাম শিখিয়ে থাকেন। যা শিশুদের উচ্চারণে স্থায়ীভাবে প্রভাব ফেলে। জাতীয় সংসদে অনেক সাংসদ এতটাই ভুল উচ্চারণে বাংলা বলেন যে তার অর্থই পরিবর্তন হয়ে যায়। আমি মনে করি ভুল উচ্চারণে কোন বিল সংসদে পাস হওয়া উচিত নয়।

উপসংহার : বিশ্বে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন শাসক গোষ্ঠী, তাদের ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য যুগের পর যুগ, শতাব্দীর পর শতাব্দী মানুষকে অবদমিত করে রেখেছে, বঞ্চিত করেছে তাদের মাতৃভাষার অধিকার থেকে। আশার কথা বাংলা ভাষা-ভাষীরা আজ বিশ্বে সোচ্চার। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে আজ গড়ে উঠেছে বাঙালিদের বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক ও সংস্কৃতিক সংগঠন। আজ তাই গর্বের সাথে বলতে চাই- “মোদের গরব মোদের আশা / আ-মরি বাংলা ভাষা” লেখক: কবি, নাট্যকার, গীতিকার সুএ দৈনিক আজাদী