খদ্দরঃ কুমিল্লার ঐতিহ্য সম্ভাবনার প্রাচুর্য

প্রকাশিত: ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৯, ২০১৯

সেদিন ঢাকায় ‘ফিউচার ফেব্রিক্সস শো’ শেষ হলো খাদি শিল্প নিয়ে দুদিনের মেলা । আসলে যতই দিন যাচ্ছে, খাদি বা খদ্দর নিয়ে ততই আলোচনার ব্যপ্তি বাড়ছে । তবে কুমিল্লার বাইরেই চলছে এসব আলোচনা । আমরা কুমিল্লার মানুষ জানি খদ্দর বা খাঁদি আমাদের ঐতিহৃ । ঐ পর্যন্তই । সেদিন কুমিল্লার মনোরহরপুরে “খাদি ভবনে” বসে কথা বলছিলাম সে দোকানের অন্যতম মালিক সানাইয়ের সঙ্গে । এদোকানে বহু বছর আগে থেকেই আমি এবং আমার মত আমার বন্ধুদের অনেকেই এখানে বসে সময় কাটাতাম। এক সময় এর আকর্ষন ছিল সনাইদের বড় ভাই বিজয় দা। অত্যন্ত সজ্জ্বন এবং প্রগতীশীল মানুষ তিনি । পত্রপত্রিকার প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ তার প্রতি আমাদের বিশেষ করে আমি ও সেই সময়কার কুমিল্লার সক্রিয় সাংবাদিক নুরুর রহমান বাবুল, আলী হোসেন চৌধুরী ,নাসির উদ্দিন এমনি অনেকেই এখানে বসতাম নিয়মিত । এমনকি ঢাকায় চলে আসার পরও ছুটিতে কুমিল্লা গেলেই সেখানে বসতাম । তবে, আমাদেরই এক সাংবাদিক বন্ধুর সাথে রাতে মটরসাইকেলে ঘুরতে গিযে দূর্ভাগ্যজনক এক দুর্ঘটনায় বিজয়দা অসুস্থ হয়ে পরায় দোকানে আর তেমন বসেননা । এখন মূলত সানাইই দোকান দেখাশোনা করে । সঙ্গত কারনেই খদ্দরের প্রতি আমার আকর্ষন আর আগ্রহটা একটু বেশীই । পাশাপাশি এর উল্টো দিকেই রয়েছে শহরের আর একটি অনেক পুরনো খাদি বস্ত্রের দোকান “ খাদি ঘর”। সেখানে বসেন অন্যতম মালিক কান্তিদা । তিনিও কিন্তু, সেই ৭৩-৭৪ সাল থেকেই খাদির তৈরী পোষাকের আধুনিকতম দিকটি ফুটিয়ে তোলার কাজটিতে নিরন্তন প্রয়াস চালিযে যাচ্ছেন । ওনার সাথেও আমার অন্তরঙ্গতা অনেক আগে থেকেই। তবে,কান্তিদা আর বিজয়দা বা বর্তমানে সানাই ও তার ভাই ভাতিজারা দুটি ভিন্নে ভিন্ন আঙ্গিকে খাদির সম্প্রসারনের কাজটি চালিয়ে যাচ্ছেন নিরন্তর । কান্তি‘দা যেমনি খাদি পোষাকের নিত্যনতুন ডিজাই,অাঙ্গিক তার চাকচিক্যে দিকটি তুলে ধরে আধুনিকতার স্পর্শে খদ্দর কাপড়কে সর্বজনিন আকর্ষনিয় করে তুলেছেন । তেমনি সানাইরা খদ্দর কাপড়ে বিভিন্ন ডিজাইনের ব্লকপ্রিন্ট থেকে শুরু করে নকশিকাথা,বেডসিট,লুঙ্গি,কামিজ,পান্জাবি ইত্যাদি তাদের বাড়িতেই তৈরী করে এর জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে । শুধু কুমিল্লাতেই না । আশির দশকে ঢাকতে যখন বাণিজ্য মেলা শুরু হয় ,তখন থেকেই তারা খাদি ভবন নামেই কুমিল্লার খদ্দরের প্যভেলিয়ান দিয়েছে নিয়মিতিই । আর সেই ভাবেই কুমিল্লা খদ্দরের জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পরার শুরু। তবে তারাই শুধু নয় ,আরো অনেকেরই মেধা,শ্রম, ঘাম ,দক্ষতার স্পর্শ রয়েছে ইতিহাসের প্রতিটি পর্বেই । এইযে কুমিল্লার খদ্দরের বর্তমান যে রূপ বা রমরমা ভাব, তার নেপথ্যে রয়েছে অনেক পুরনো ইতিহাস । অনেক চড়াই -উৎড়াই পেড়িয়ে, পরিবর্ত-বিবর্তনের মধ্য দিয়ে ধাপে ধাপে এগিয়েছে । আজকের এই পর্যায়ে পৌচেছে আমাদের ঐতি্হ্যের ধারক এই শিল্পটি।